সৌদি আরবে সাজা ভোগ শেষ, তবুও দেশে ফিরতে পারছেন না বাংলাদেশি প্রবাসী রফিকুল ইসলাম; সহায়তার আবেদন

সৌদি আরবে কয়েক বছর আগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় নাগরিক আব্দুর রহিমের জন্য বিপুল অঙ্কের ‘ব্লাড মানি’ সংগ্রহ করে তাকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। সেই ঘটনায় বাংলাদেশের মানুষও মানবিক উদ্যোগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
ঠিক তেমনই এক অসহায় পরিস্থিতিতে বর্তমানে সৌদি আরবে আটকে আছেন বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার ভান্দ্রবাড়ি গ্রামের প্রবাসী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
পরিবারের জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালে তিনি সৌদি আরবে যান এবং একটি প্রতিষ্ঠানে ড্রাইভার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর কোম্পানির পাঁচজন সৌদি নারী কর্মীকে কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পথে তার চালিত গাড়ির সঙ্গে একটি লরির সংঘর্ষ হয়। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন এবং পরে হাসপাতালে আরও দুজন মারা যান। গুরুতর আহত হন রফিকুল ইসলামও।
ছয় মাস চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরলে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে সৌদি আদালত তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৪০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন।
রফিকুল ইসলাম ইতোমধ্যে আদালতের দেওয়া তিন বছরের সাজা সম্পূর্ণ ভোগ করেছেন। তবে তার দাবি, মুক্তির জন্য নিয়োগকর্তার নির্দিষ্ট কিছু আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন হলেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগকর্তা তা করছেন না। বরং শুরুতে আশ্বাস দিলেও বর্তমানে তার সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সহায়তা পাননি।
সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, আহতদের চিকিৎসা ব্যয় যুক্ত হওয়ায় তার জরিমানার পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪ লাখ সৌদি রিয়ালে দাঁড়িয়েছে। এই অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত কিংবা নিহত ও আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জরিমানা মওকুফের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত তার মুক্তি সম্ভব নয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
রফিকুল ইসলামের দাবি, ঘটনাটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা। আদালতের নির্ধারিত সাজাও তিনি ভোগ করেছেন। কিন্তু এত বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা তার ও তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব। ২০১৯ সালে সৌদি আরব যাওয়ার পর থেকে তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ সরকার, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি রফিকুল ইসলামের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে পারে না? তার নিয়োগকর্তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা, নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগ কি নেই?
এছাড়া, প্রয়োজনে সামাজিক উদ্যোগ বা ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে তার জরিমানা পরিশোধে সহায়তার পথও বিবেচনা করা যেতে পারে।
একজন প্রবাসী কেবল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম নন; তিনি একটি পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও নির্ভরতার প্রতীক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগে যদি রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিনের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে পরিবারের কাছে ফিরতে পারেন, সেটিই হবে মানবিকতার বড় একটি উদাহরণ।





