প্রবাস

এক কফিনের পর আরেক কফিন…দুই ছেলের মরদেহ দেখে বাবার বুকফাটা প্রশ্নে স্তব্ধ বিমানবন্দর

একসঙ্গে আদরের দুই সন্তানের মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে এগিয়ে গিয়েও হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গণিপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক। কফিনবন্দি দুই ছেলেকে দেখে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সে সময় তার অসহায় প্রশ্নে কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবেশ। উপস্থিত স্বজন কিংবা কর্মকর্তাদের কারও কাছেই ছিল না সেই প্রশ্নের উত্তর।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুল মালেকের বড় ছেলে ফয়েজ আহমেদ সজীব ও মেজ ছেলে ফরহাদ হোসেন সুজনের মরদেহ রোববার (২৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই মধ্যরাতে রিয়াদ থেকে জেদ্দার উদ্দেশে যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন দুই ভাই। পরে তাদের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার ১২ দিন পর দেশে ফিরল দুই ভাইয়ের মরদেহ। মরদেহ গ্রহণের জন্য দুপুর থেকেই বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন বাবা আব্দুল মালেক, পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একসঙ্গে দুই সন্তানের কফিন সামনে আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা।

স্বজনরা জানান, সরকারিভাবে মরদেহ দেশে আনার জন্য আবেদন করা হলেও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে সৌদি আরবে থাকা সহকর্মী ও স্বজনদের আর্থিক সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত দুই ভাইয়ের মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার তাগিদে ধারদেনা করে প্রথমে বড় ছেলে ফয়েজ আহমেদ সজীবকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন আব্দুল মালেক। পরে সজীবই ছোট ভাই ফরহাদ হোসেন সুজনকে সৌদিতে নিয়ে যান। ভাগ্যের সন্ধানে একসঙ্গে বিদেশযাত্রা করা দুই ভাই এবারও একসঙ্গেই ফিরলেন, তবে কফিনবন্দি হয়ে।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুই ভাইয়ের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। সেখানে শেষবারের মতো তাদের দেখার অপেক্ষায় ছিলেন মা, একমাত্র বোন, ফয়েজের স্ত্রী-সন্তানসহ অসংখ্য স্বজন ও এলাকাবাসী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় কামারহাট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে দুই সহোদরকে। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
28 July 2026

এক কফিনের পর আরেক কফিন...দুই ছেলের মরদেহ দেখে বাবার বুকফাটা প্রশ্নে স্তব্ধ বিমানবন্দর

www.SatkahonNews.com