বিবিধ

ট্রাম্পকে গুলি: ‌‘সাজানো নাটক’ বলছেন ষড়যন্ত্রবাদীরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগে পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী এক সমাবেশে গুপ্তহত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন দেশটির সাব্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তৃতীয় বারের মতো রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার কয়েক দিন আগে শনিবার পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।

বাটলারের সমাবেশস্থলের কাছের একটি ভবনের ছাদ থেকে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ গুলি চালান। সমাবেশস্থল থেকে ২০০ মিটার দূর থেকে ছোড়া সেই তরুণের একটি গুলি সাবেক এই প্রেসিডেন্টের ডান কান ফুটো করে বেরিয়ে গেছে। এই হামলার ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করেছেন দেশটির আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তারা। ওই হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‌‌‘মঞ্চস্থ’ শব্দটি ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের ওপর তরুণের গুলির ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলেও অভিহিত করেছেন।

‘মঞ্চস্থ’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে চরম ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সমার্থক হয়ে উঠেছে। দেশটিতে প্রায়ই আক্রমণ বা গুলির ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইন্টারনেটের অন্যান্য জনপ্রিয় সব বিষয়কে ছাড়িয়ে গেছে মঞ্চস্থ শব্দটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই শব্দটি ব্যবহার করে অসংখ্য পোস্ট করা হয়েছে; যা লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন। তবে এসব পোস্টের বেশিরভাগই অসমর্থিত গুজব, বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা ও গালাগালিতে ভরা।

অতীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের হত্যা প্রচেষ্টাতেও বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর নজির রয়েছে। এর সবচেয়ে সুপরিচিত উদাহরণ ১৯৬৩ সালের নভেম্বরে জন এফ কেনেডিকে হত্যার ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রে সেসময়ও এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভিত্তিহীন গুজব বেড়েছিল।

এক্সে ট্রেন্ডে পরিণত হওয়া ‘মঞ্চস্থ’ শব্দটি কেবল প্রতিশ্রুতিশীল রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠীর মাঝেই সীমিত ছিল না। বরং অন্যান্য ব্যবহারকারীদের টাইমলাইনেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল; কারণ বাটলারে আসলে কী ঘটেছে তা বোঝার চেষ্টা করেছিলেন তারা। এছাড়া ব্লু টিকধারী এক্স ব্যবহারকারীরা এই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে বেশি পোস্ট করায় তা আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে মুহূর্তের মধ্যে ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে শব্দটি।

বরাবরের মতো এসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বৈধ প্রশ্ন ও বিভ্রান্তির মাধ্যমে শুরু হয়েছে। অনেকেই নিরাপত্তা ব্যর্থতাকে দায়ী করে এই ধরনের হামলার ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button