ছয় হাজার গাড়িচালক নিচ্ছে দুবাই, ৩ দিনেই মিলছে ভিসা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা বন্ধ এমন তথ্য চালু থাকলেও আদতে সেটি পুরোপুরি সঠিক নয়। বৃহত্তর পরিসরে কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য আমিরাতের ভিসা স্থগিত থাকার মধ্যেই ৬ হাজার গাড়িচালক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি। ইতোমধ্যে সামান্য অর্থ ব্যয় করে দুবাই যাওয়ার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই হাজার বাংলাদেশি গাড়িচালক আমিরাতে পৌঁছেছেন। তবে ভিসা নিয়ে ভুল তথ্যে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণে ৬ হাজার গাড়িচালক নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এই দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানিতে আগে থেকেই প্রায় দশ হাজার বাংলাদেশি কাজ করছেন। ওই কোম্পানিতে আরও দক্ষ গাড়িচালক নিয়োগে এগিয়ে আসেন কোম্পানির প্রতিনিধিরা। লক্ষ্যপূরণ না হওয়ায় ২৯ আগস্ট ঢাকা আসছে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল।
কথা হয় প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরর সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, সরকারি পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমেই দুবাই ট্যাক্সিতে লোক পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। তিনি বলেন, শুধু ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ট্যাক্সিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভালো কাজের সম্ভাবনা
রয়েছে বাংলাদেশিদের। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে মন্ত্রণালয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুবাইয়ের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে ৬ হাজার গাড়িচালক বাংলাদেশ থেকে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
জানা গেছে, দুবাই ক্যাবে জন্য যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের ২-৩ কর্ম দিবসের মধ্যেই ভিসা দিচ্ছে দূতাবাস। এখন পর্যন্ত যারা গেছেন তাদের প্রথমে ৬ মাসের ট্রেনিং দিয়েছে দুবাই ক্যাব। এরপর তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে গাড়ির চাবি। কমিশনভিত্তিক এই ট্যাক্সি ক্যাবের চাকরিতে ঢুকে বাংলাদেশি টাকায় ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে। দুবাই ক্যাবে কাজ করছেন এমন কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে।
রিক্রুটিং এজেন্সি আল আনাস ওভারসিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আরব আমিরাতের সব ধরনের ভিসা বন্ধ এমন প্রচারণা সত্যি নয়। দুবাই ক্যাবে যারা কাজ করতে চান তাদের খুব সহজেই ভিসা দেওয়া হচ্ছে। যাওয়ার খরচও মাত্র ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। দেশের বেকার তরুণ যুবকদের অনেকে এ সুযোগটির কথা জানেন না। দুবাইয়ে ক্যাব চালিয়ে অনেক বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হয়েছে এবং আর্থিকভাবে সচ্ছলতা এসেছে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা দেশে রেমিট্যান্স আসছে। যা দেশের জন্য কল্যাণকর।





