পরিচয় মিলেছে কুয়েতে হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি আসামির

কুয়েতের আল-জাহরা গভর্নরেটের আস-সালমি এলাকায় একটি গবাদিপশুর খামারে অগ্নিকাণ্ডে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনায় হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ওসমান গনী নয়ন। তিনি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আজিজুর রহমান এবং মায়ের নাম মনোয়ারা বেগম।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আস-সালমি এলাকার একটি গবাদিপশুর খামারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় উদ্ধারকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে খামার থেকে এক সৌদি নাগরিকের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার তদন্তে নিহতের ব্যবহৃত গাড়ির ভেতরে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এতে আগুনে পুড়ে ওই
ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান চালিয়ে নিহতের পোশাক ও ব্যক্তিগত কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপরাধের আলামত নষ্ট করার চেষ্টারও প্রমাণ পাওয়া যায়।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খামারের বাংলাদেশি পাহারাদার ওসমান গনী নয়নের ওপর সন্দেহ হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ।
জিজ্ঞাসাবাদে ওসমান গনী জানান, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন তিনি। পরে তাকে খামারের পশুখাদ্য রাখার স্থানে নিয়ে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া হত্যার ঘটনা আড়াল করতে রক্তের দাগ পরিষ্কার এবং নিহতের কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী
সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওসমান গনী নয়ন প্রায় তিন মাস আগে তার আপন মামার মাধ্যমে কুয়েতে আসেন। কুয়েতে আসার পর তিনি ওই গবাদিপশুর খামারে চাকরি নেন। তার বাবা আজিজুর রহমানও সাবেক কুয়েতপ্রবাসী ছিলেন বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ওসমান গনী নয়নের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পর তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপরাধের রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।





