ভোটের লড়াইয়ে সবার দৃষ্টি যাদের দিকে

রাত পোহালেই শুরু হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। রয়েছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল, তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশসহ বিভিন্ন প্রতীকের হেভিওয়েট প্রার্থীও। ফলে অনেক আসনেই নৌকার বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটারসহ সাধারণ মানুষ। আর সবাই এসব আসনের দিকেই তাকিয়ে আছেন। দেখার অপেক্ষা শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে জয় নিয়ে ঘরে ফেরেন কারা।
সালমান এফ রহমান-সালমা ইসলাম
ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসন থেকে লড়ছেন দুই হেভিওয়েট। একজন নৌকার প্রার্থী প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। অপরজন লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। গত নির্বাচনেও আসনটিতে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সংসদে গিয়েছেন সালমান এফ রহমান। তবে পরবর্তীতে সংরক্ষিত আসনের এমপি হয়ে সালমা ইসলামও বসেছেন সংসদে।
জাফরউল্লাহ-নিক্সন
গত দুইটি জাতীয় নির্বাচনের মতো এবারও আলোচনায় রয়েছে ফরিদপুর-৪ আসন। এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর সঙ্গে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সনের। এই আসনে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিক্সন চৌধুরীর কাছে ভরাডুবি হয়েছে হেভিওয়েট জাফরউল্লাহর।
শমসের-নাহিদ
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নৌকার প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। বিএনপি-বিকল্পধারার রাজনীতি করে আসা সাবেক সচিব ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত নতুন রাজনৈতিক দল তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর সঙ্গে নুরুল ইসলাম নাহিদের হাড্ডাহাড্ডি ভোটের লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
গোলাম দস্তগীর-তৈমুর
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে আছেন বিএনপি থেকে বেরিয়ে আসা তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় গোলাম দস্তগীরের শক্ত বলয়ের মাঝে তৈমূরের জয় কঠিন হবে। তবে হাড্ডাহাড্ডি ভোটের লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সৈয়দ ইবরাহিম-জাফর
কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির জোট থেকে বেরিয়ে আসা কল্যাণ পাার্টির চেয়ারম্যানের সামনে নৌকার প্রার্থী না থাকলেও মাঠে আছেন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলম। আসনটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা জাফরকেই ভোট দেবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। ফলে আসনটিতে সৈয়দ ইবরাহিমের জয় পাওয়া কঠিন হতে পারে।
মঞ্জু-মহারাজ
পিরোজপুর-২ আসনে নৌকা প্রতীকে লড়ছেন ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তবে তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ। স্থানীয়রা মনে করছেন দুই প্রার্থীর মধ্যে শক্ত লড়াই হবে।
ইনু-কামরুল
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর ও ভেড়ামারা) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করা কামরুল আরেফিন। নৌকা নিয়ে নির্বাচন করলেও ইনুর সমর্থনে নেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী। তাই নৌকা পেয়েও চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন হাসানুল হক ইনু।
মেনন-মনিরুল
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও লড়ছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে। বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগ নেতা ফাইয়াজুল হক রাজু। বরিশালের এই আসনটিতে স্থানীয়দের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগহীনতার কারণে তৃণমূলের কর্মীদের বড় অংশই নেই রাশেদ খান মেননের পক্ষে। ফলে ভোটের মাঠে পাল্লা ভারী রয়েছে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর।
মুরাদ-হেলাল
জামালপুর-৪ আসনে ঈগল প্রতীকে ভোট করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। মুরাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন নৌকার প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান হেলাল। মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ হারানো সংসদ সদস্য মুরাদ হাসান আবারও সংসদে বসতে পারবেন কিনা তাই নিয়ে সারাদেশের মানুষের মনে রয়েছে কৌতুহল।
ব্যারিস্টার সুমন-মাহাবুব আলী
এবারের নির্বাচনে আরেক আলোচিত প্রার্থী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে নৌকার প্রার্থী বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহাবুব আলীর বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে আছেন ব্যারিস্টার সুমন। প্রতিমন্ত্রীই শেষ পর্যন্ত জনভোটের রায় নিয়ে আবারও সংসদে বসবেন নাকি ব্যারিস্টার সুমন আসছেন সংসদে তা দেখার অপেক্ষায় স্থানীয়দের পাশাপাশি সারাদেশের মানুষ।
মাহিয়া মাহি-ওমর ফারুক
রাজশাহী-১ আসনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। ভোটে এসে আলোচনা সৃষ্টি করা এই নায়িকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী। পুরো নির্বাচনি প্রচারণার সময়জুড়েই মাহির মুখে ছিলো ‘চৌধুরী সাহেব’কে নিয়ে নানা সমালোচনা। এবার অপেক্ষা জনভোটের রায়ের।





