ওমরাহ শেষে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা:একই পরিবারের ৪ জন নিহত,৩ মাস পর দেশে ফিরছে গাড়ি চালকের মরদেহ।

ওমরাহ পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে সৌদি আরবে সংঘটিত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনায় নিহত গাড়িচালক মো. জিলানী বাবরের মরদেহ প্রায় তিন মাস পর দেশে ফিরছে।
জানা যায়, সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০) চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ছুটিতে এসে স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। ওমরাহ শেষে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), তাদের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) এবং দেড় বছর বয়সী কন্যা সুবহা আক্তার। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান গাড়ির চালক মো. জিলানী বাবর (৩০)। তবে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় মিজানের আরেক মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১)।
গুরুতর আহত ফাইজাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এক সপ্তাহ চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি তার মামা তানভীর হোসেন তাকে দেশে নিয়ে আসেন। বর্তমানে সে বাংলাদেশে পরিবারের সঙ্গেই রয়েছে।
পরিবারের সম্মতিতে, মৃত্যুর ২৫ দিন পর গত ১০ মার্চ সৌদি আরবের আল বাহা অঞ্চলের গিলুয়া শহরের শেখ মুসতুর মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী ও দুই কন্যাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
অন্যদিকে, নিহত চালক জিলানী বাবরের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, ফ্লাইট সংকট ও অন্যান্য জটিলতার কারণে তা বিলম্বিত হয়।
অবশেষে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামীকাল ৫ মে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নিহত মিজানুর রহমান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের শহিদ উল্যার ছেলে। আর চালক জিলানী বাবর একই ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের আবুল হোসেন পাটওয়ারীর ছেলে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।





