ধর্ম

সাইয়েদুল ইস্তিগফারের ফজিলত

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামের কোনো গুনাহ ছিল না। তিনি ছিলেন নিষ্পাপ। এরপরও তিনি দিনে-রাতে প্রচুর পরিমাণ ইস্তেগফার পাঠ করতেন। আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে দোয়া করতেন। কেননা এতে আল্লাহ তাআলা খুশি হন।

হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করে বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামকে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহর কসম! আমি প্রত্যহ আল্লাহর কাছে ৭০ বারেরও বেশি ইস্তেগফার ও তাওবা করে থাকি।’ (বুখারি ৬৩০৭)

তিনি বেশ কিছু বাক্য দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা শিখিয়েছেন। তার মধ্যে একটিকে সাইয়েদুল ইস্তেগফার বলা হয়। এর ফজিলত সম্পর্কে রসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যদি কেউ সকাল-সন্ধ্যায় বিশ্বাসের সঙ্গে সাইয়েদুল ইস্তেগফার পাঠ করে, সে যদি ওই দিন রাতে বা দিনে ইন্তেকাল করে, তাহলে সে জান্নাতি হবে।’
 
রসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ়বিশ্বাসের সঙ্গে সাইয়েদুল ইস্তেগফার সকালে পাঠ করে সারা দিনের কোনো অংশে যদি সে মারা যায়, তবে সে জান্নাতি হবে। যদি রাতে পাঠ করে তাহলে রাতে মারা গেলেও সে জান্নাতি হবে। অর্থাৎ সাইয়েদুল ইস্তেগফার সকাল-বিকাল দুবার পাঠ করলে সারা দিনে যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকে তবে সে জান্নাত লাভ করবে।

সাইয়েদুল ইস্তেগফার

 

সাইয়েদুল ইস্তেগফার, ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া। মানবজাতি নানা রকম ভুল পাপাচারে লিপ্ত হয়। মহান আল্লাহ তাআলা এসব পাপ ও ভুলগুলো ক্ষমা করার জন্য মানবজাতিকে বিভিন্ন দোয়া ক্ষমা প্রার্থনার নিয়ম শিখিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সবচেয়ে উত্তম একটি দোয়া সাইয়েদুল ইস্তেগফার।

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْت

 
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি। লা ইলাহা ইল্লা আনতা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা। ওয়া আনা আলা আহদিকা। ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাতা’তু। আউজু বিকা মিন শাররি মা-সানাআ’তু। আবুয়ু লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা। ওয়া আবুয়ু লাকা বি জাম্বি। ফাগফিরলি। ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনবা ইল্লা আনতা।
 
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রভু, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ বা মাবুদ নেই; আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই গোলাম, আর আমি আছি আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের ওপর আমার সাধ্যমতো; আমি আপনার কাছে পানাহ ও আশ্রয় চাই আমার অনাসৃষ্টির অকল্যাণ এবং অপকার ও ক্ষতি হতে। আমি স্বীকার করছি আমার প্রতি আপনার সব নিয়ামত, আরও স্বীকার করছি আপনার সমীপে আমার সকল অপরাধ; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন, আর অবশ্যই আপনি ছাড়া ক্ষমা করার আর কেউ নেই। (নাসায়ি ৫৫২১, বুখারি ও মুসলিম)।
 
ক্ষমা প্রার্থনার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। যখনই পাপের জন্য অনুতপ্ত হবে তখনই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন সাইয়েদুল ইস্তেগফার সকালে ও রাতে এই দুই সময় পড়া সবচেয়ে উত্তম। রাসুল সা. বলেন, ‘সাইয়েদুল ইস্তেগফার সকালে পাঠ করে কেউ যদি দিনে মারা যায় তবে সে জান্নাতি, কেউ যদি রাতে পাঠ করে ওই রাতে মারা যায় তাহলে সে জান্নাতি। এর থেকে বোঝা যায়, সাইয়েদুল ইস্তেগফার সকালে ও রাতে দুবার পাঠ করা উচিত।

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

সাইয়েদুল ইস্তিগফারের ফজিলত

২৭ অক্টোবর ২০২৪
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.SatkahonNews.com