প্রবাস

সুস্থ হয়ে আর দেশে ফেরার স্বপ্ন আর পূরণ হলোনা,কফিনবন্ধি দেশে আসছে বিল্লাল হোসেন।

ভাইয়া তুমি আইসো,আমারে একটু বাঁচাও,আমারে আর একবার আইসিইউ তে ভর্তি করো,আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়,আমার নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে,তুমি একবার ডাক্তার রে গিয়ে কউ,আমারে আর এক বার আইসিইউ তে ভর্তি করো।

হাসপাতালের বেড থেকে এটি ছিল সৌদি প্রবাসী বেল্লাল হোসেনের শেষ মেসেজ,যেটি পাঠিয়েছিলেন তার ভগ্নিপতি সৌদি প্রবাসী সোহাগ হোসেন কে।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস,আইসিইউ তে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে আর সুস্থ হয়ে ফিরলেন না বিল্লাল,প্রবাসের মাটিতে জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন তিনি,গত ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দাম্মাম মেডিকেল কমপ্লেক্সে মারা যান বরিশাল জেলার,বাবুগঞ্জ উপজেলার,ভুতেরদিয়া গ্রামের মন্টু ফকিরের ছেলে বিল্লাল হোসেন।

জীবিকার তাগিদে চলতি বছরের মার্চ মাসের উনিশ তারিখ দক্ষিণ বাংলা ওভারসিস লিমিটেডের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান বিল্লাল।

সৌদি আরবের যাওয়ার তিন মাসের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বিল্লাল,অসুস্থ বিল্লাল কে ২৭ জুন ২০২৫ দাম্মাম মেডিকেল কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়,সেখানে তার জটিল একটি অপারেশন হয়,তার তিনটি টিউমারের মধ্যে পিঠের টিউমারটি ফেটে বাম হাত সহ বুকের নিচ থেকে পা পর্যন্ত অবশ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় নিয়োগকর্তা উপস্থিত না থাকায় তার সুচিকিৎসা হচ্ছিলো না।

যার প্রেক্ষিতে গত ১৯ আগস্ট বিল্লাল হোসেন কে সুচিকিৎসা ও সরকারি খরচে শেষে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদ্যশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ অর্নাস কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন বিল্লালের বোন মাসুদা।

আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদের একটি টিম বিল্লাল হোসেন কে দেখতে হাসপাতালে যান,এবং তারা জানান বিল্লাল হোসেনের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী তিনি দেশে ট্রাভেল করার উপযুক্ত না,তারা সুচিকিৎসার আশ্বাস দেন এবং জানান কিছুটা সুস্থ হলে তাকে দেশে পাঠানো হবে।

কিন্তু হঠাৎ করে পরিবারের কাছে খবর আসে চলতি মাসের চার তারিখ ওই হাসপাতালেই মারা যান বিল্লাল।
মৃত্যুর খবর শুনার পর বিল্লালের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ আবারো ওয়েজ অর্নাস কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন মাসুদা ।

অবশেষে আগামীকাল ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদ্যশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ অর্নাস কল্যাণ বোর্ডের সহযোগিতায় দেশে আসছে বিল্লালের মরদেহ।
পরিবারের পক্ষ থেকে বিল্লালের বোন মাসুদা মরদেহ গ্রহণ করার কথা রয়েছে।

চার বোনের এক ভাই ছিলেন বিল্লাল,বাবা পেশায় অটো চালক,পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি ।
কিন্তু সফলতা নামক সোনার হরিনের দেখা পাওয়ার আগেই মাত্র ০৬ মাসের মাথায় কফিন বন্ধি হয়ে দেশে ফিরছেন এই স্বপ্নবাজ তরুণ রেমিটেন্স যোদ্ধা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button