স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান নিয়ে অবশেষে সৌদি আরবেই সমাহিত হলেন প্রবাসী মিজানুর রহমান।

ওমরাহ হজ শেষে সৌদি আরবে বাসায় ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত লক্ষ্মীপুরের সৌদি আরব প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছরের মেয়ে সুবহা আক্তারের মরদেহ আজ ১০ মার্চ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত দশটায় সৌদি আরবের আল বাহা অঞ্চলের গিলুয়া শহরের শেখ মুসতুর মসজিদ প্রাঙ্গনে জানাযা শেষে,স্থানীয় একটি করবরস্থানে দাফন করা হয়েছে ।
জানা যায়, কাগজপত্র প্রস্তুতের জটিলতা ও মরদেহ দেশে আনায়নের মোটা অংকের টাকা জোগাড় না হওয়ায় মরদেহগুলো সৌদি আরবেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেন মিজানের পরিবার।
একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মিজানের মেজো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) জেদ্দার একটির হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী মধ্যে রাতে মামা তানভীর হোসেনের সঙ্গে দেশে আসেন।
উল্লেখ্য গত ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে যান। সৌদিতে পৌঁছার ৫ দিন পরে ওমরাহর উদ্দেশে তারা সৌদির বাসা থেকে বের হন। ওমরাহ শেষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান মিজান তার স্ত্রী ও দুই কন্যা,একই দুর্ঘটনায় তাদের গাড়ি চালক জিলানী বাবরও (৩০) ও মারা যান।। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মিজান রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহিদ উল্যার ছেলে। নিহত মেহের আফরোজ স্থানীয় টিউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহত প্রবাসী গাড়িচালক একই ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে।
মিজানুর রহমান সৌদি আরবের আল বাহা শহরে নিয়োগকর্তা (কফিলের)বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেখাশুনা করতেন।
কিছুদিন পূর্বে দেশে এসে স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তানকে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যান।
নিয়োগকর্তা মিজানের আহত কন্যা সন্তান ফাইজার হাসপাতলের বিল পরিশোধ করে বিমানের টিকিট কেটে দেশে পাঠিয়েছেন,কিন্তু বাকি চার জনের মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ দিতে অপারগতা জানান।
চারটি মরদেহ দেশে আনার খরচ প্রায় চল্লিশ হাজার সৌদি রিয়্যাল,সৌদি আরবের অবস্থানরত মিজানের বন্ধুবর্গ পাচঁ হাজার সৌদি রিয়্যাল দিতে চেয়েছিলেন,কিন্তু মিজানের পরিবার বাকি টাকা জোগাড় করতে না পারায় সৌদি আরবেই দাফনের সিদ্বান্ত নেয়া হয়।
এদিকে নিহত গাড়ি চালক জিলানী বাবরের কাকা জানান: জিলানীর মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য সকল কাগজপত্র প্রস্তুত সম্পর্ণ হয়েছে,খুব শিগ্রই তার মরদেহ দেশে পাঠানো হবে।





