ফিরবে বলে অপেক্ষা,কিন্তু তারা আর ফিরবে না।

দেশে ফিরে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের স্বপ্নে বিভোর ছোট্ট ফাইজা। কিন্তু সে জানে না—যাদের জন্য তার এই অপেক্ষা, তারা আর কখনো ফিরবে না। সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তার বাবা-মা ও দুই বোন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও, জীবনের সবচেয়ে নির্মম সত্য এখনো অজানা ফাইজার কাছে।
সৌদি আরবের এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক মুহূর্তে ভেঙে যায় একটি প্রবাসী পরিবারের স্বপ্ন। নিহত হন প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি, স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ, দেড় বছরের শিশু সুবহা আক্তার এবং গাড়িচালক মো. জিলানী বাবর।
তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় পরিবারের মেজ মেয়ে, ছোট্ট ফাইজা।
দুর্ঘটনার পর পাঁচ দিন জেদ্দার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল সে। সুস্থ হয়ে গতকাল মধ্যে রাতে মামা তানভীর হোসেনের সঙ্গে দেশে ফিরেছে ফাইজা।
আজ ভোরে তারা পৌঁছায় রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামে।
কিন্তু গ্রামের বাড়িতে ফিরেও ফাইজা জানে না—তার বাবা-মা আর দুই বোন আর নেই। সে এখনো বিশ্বাস করে, তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে। আর সবাই মিলে নতুন জামা পরে যাবে ঈদ মেলায়।
ফাইজা স্থানীয় টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পরিবার নিয়ে ওমরাহ করতে সৌদি আরব যান তারা। ওমরাহ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে জেদ্দা থেকে ফেরার পথে ঘটে সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
নিহতদের মরদেহ এখনো জেদ্দা হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাই ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি কেউ।
ছোট্ট মেয়ে ফাইজা —যে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে।
কিন্তু জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাতটি এখনো তার অজানা।
এই ঈদে ফাইজা নতুন জামা পরবে ঠিকই…
কিন্তু যার হাত ধরে মেলায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে
সেই হাতটি আর কখনো ধরা হবে না।
নিলয় মাহমুদ /সাতকাহন নিউজ





